৪ঠা জুলাই, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার,রাত ৮:৫৫

সব দলের অংশগ্রহণ ছাড়া নির্বাচন গ্রহনযোগ্য হবে না

প্রকাশিত: জুন ১৩, ২০২২

  • শেয়ার করুন

 

সাবেক সিইসি ও ইসিদের মত

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ নির্বাচনে সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা না গেলে তা সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হবে না বলে মনে করেন সাবেক প্রধান  নির্বাচন কমিশনার, নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনের সাবেক সচিবরা। গতকাল নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সাবেক সিইসি, ইসি ও ইসি সচিবেরা মতবিনিময় করেন। সেখানে তারা এমন মতামত দেন। সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার ড. এ টি এম শামসুল হুদা বলেন, এবারের নির্বাচনে সবদল অংশগ্রহণ না করলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। বিএনপির বক্তব্যে বোঝা যাচ্ছে-তারা বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্বাচনে আসতে চায় না। তাদের নির্বাচনে আনতে নির্বাচন কমিশনকে ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি বলেন, আমাদের সময়ও বিএনপি নির্বাচনে আসতে চায়নি। আমাদের অনেক চেষ্টার পর বিএনপি নির্বাচনে আসতে রাজি হয়।

নির্বাচন কমিশন যদি একটা পরিবেশ তৈরি করতে পারে তাহলে সব দলই অংশগ্রহণ করবে। নির্বাচন কমিশনকে সম্পূর্ণ স্বাধীন হতে হবে। তিনি বলেন, মাহবুব তালুকদার বলেছেন সুষ্ঠু নির্বাচন করতে হলে আইনের সংশোধন করতে হবে।

বিজ্ঞাপন

আমি মনে করি এটার দরকার নাই। আমরা তো এই আইন দিয়েই ফেয়ার নির্বাচন করেছি। রিটার্নিং কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে জানিয়ে তিনি বলেন, জেলা প্রশাসনকে রিটার্নিং কর্মকর্তা না করে নির্বাচন অফিসারদের রিটার্নিং কর্মকর্তা করার কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু সব জেলার নির্বাচন অফিসার রিটার্নিং কর্মকর্তা হওয়ার যোগ্য না। তাদেরকে প্রশিক্ষণ দিতে হবে। এরআগে কিছু কিছু জায়গায় জেলা প্রশাসনকে রিটার্নিং কর্মকর্তা করতে হবে।   আগামী জাতীয় নির্বাচনের একটাই চ্যালেঞ্জ, তা হলো সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন করা উল্লেখ করে সাবেক নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার বলেন, নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক না হলে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে তা গ্রহণযোগ্য হবে না।

সাবেক নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আবু হাফিজ বলেন, সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। তাহলে সবাই মনে করবে, নির্বাচন ভালো হয়েছে। কিন্তু এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন ইনভল্ব (যুক্ত) হতে পারবে না। যদি তারা ইনভল্ব হয়ে যায়, তাহলে দেখবে যে কিছুই করা যাচ্ছে না। আমাদের সময় যারা নির্বাচন বর্জন করেছিল, তাদের আনার জন্য অনেক চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু সেটা হয়নি। অনেক সহিংসতা হয়েছে। ওই সময় নির্বাচন না হলে সহিংসতা আরও হতো। আবু হাফিজ বলেন, যারা সরকারি দল, তারা চিন্তা করবে দলগুলোকে কীভাবে নির্বাচনে আনা যায়। তিনি আরও বলেন, আইন প্রয়োগ সঠিকভাবে করতে হবে। তাহলে নির্বাচন সুষ্ঠু করা সম্ভব। আমরা সঠিকভাবে নির্বাচন করলেও মানুষ মনে করবে সুষ্ঠু হয়নি। এটা আমাদের ব্যর্থতা।

যেকোনো মূল্যে সব রাজনৈতিক দলের নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব বলে মনে করেন নির্বাচন কমিশনের সাবেক সচিব মোহাম্মদ আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন এটা করতে সক্ষম হলে ৮০ ভাগ কাজ হয়ে গেল।  এদিকে ডাকাত সরাতে পারলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক নির্বাচন কমিশনার শাহ নেওয়াজ। তিনি বলেন, ব্যালট পেপারেও তো সিল মারা যায়। এজন্য ইভিএমকে দোষারোপ করে লাভ নেই। ইসিতে যে ডাকাত দাঁড়িয়ে থাকার কথাটি বলা হয়, এটা আসলে সত্যি। এই বিষয়টি শক্তভাবে দেখতে হবে। ডাকাত সরাতে পারলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে।

  • শেয়ার করুন