৫ই জুলাই, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, মঙ্গলবার,ভোর ৫:৪৭

‘বাড়ি চলো’ প্রচারণায় রহিঙ্গাদের সমাবেশ

প্রকাশিত: জুন ২০, ২০২২

  • শেয়ার করুন

 

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্প গতকাল ‘বাড়ি চলো’ সে গানে মুখর ছিল। বৃষ্টি উপেক্ষা করে রোহিঙ্গারা সকাল থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিলসহ জড়ো হতে থাকে তাদের পূর্ব নির্ধারিত সমাবেশস্থলে। এ সময় তাদের হাতে ব্যানার, ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ড শোভা পায়। এতে লেখা ছিল নিজ দেশ মিয়ানমারে এবং নিজেদের বাড়িঘরে ফিরে যাওয়া, নাগরিকত্বের স্বীকৃতিসহ নানা দাবি-দাওয়া। রোহিঙ্গা নেতারা হ্যান্ডমাইক হাতে নিয়ে সেগান ধরেন আর তাতে কণ্ঠ মেলান হাজার হাজার রোহিঙ্গা। তাদের কণ্ঠে ফুটে ওঠে স্বদেশে ফেরার আকুতি। সবার চোখে-মুখে দেখা গেছে নিজ দেশে ফেরার ব্যাকুলতা। প্রচারণা শেষে সমাবেশে তারা বেশ কয়েকটি দাবি তুলে ধরেন। বিশ্ব শরণার্থী দিবস উপলক্ষে গতকাল সকালে ‘লেটস গো হোম, লেটস গো টু মিয়ানমার’ শিরোনামে উখিয়া ও টেকনাফের বেশ কয়েকটি ক্যাম্পে বিশাল সমাবেশের আয়োজন করেন তারা।

গত কয়েকদিন ধরেই ক্যাম্পগুলোতে ‘গো হোম’ বা ‘বাড়ি চলো’ প্রচারণা চালিয়েছেন রোহিঙ্গা শরণার্থীরা। ক্যাম্পের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অলিগলি ও শরণার্থীদের বাড়িতে ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে প্রচারণা চালান রোহিঙ্গারা।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের সেক্রেটারি ডা. মো. জুবায়ের বলেন, দুই-তিন ক্যাম্পের লোকজন এক জায়গায় হয়ে অন্তত আটটি স্থানে সমাবেশ করেছে।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, মিয়ানমার সরকার ১৯৭৮, ১৯৯২, ২০১২, ২০১৬, ২০১৭ সালে আমাদের ওপর অমানবিক অত্যাচার নিপীড়ন করে নিজ দেশ থেকে বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশে বিতাড়িত করেছে। সর্বশেষ ২০১৭ সালে ১.১ মিলিয়ন রোহিঙ্গা নিজ দেশ থেকে উদ্বাস্তু হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। তার জন্য আমরা বাংলাদেশ সরকারের কাছে কৃতজ্ঞ। আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস (এআরএসপিএইচ) সংগঠনের সদস্য নুরুল আমিন বলেন, ২০১৭-২০১৮ এর মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সহায়তায় বাংলাদেশ ও মিয়ানমারে বিভিন্ন চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের কোনো আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না।

আমরা নিজেদের এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। দ্রুত রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও বিশ্ব নেতৃবৃন্দের এগিয়ে আসার অনুরোধ জানাচ্ছি। ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক পুলিশ সুপার মো. নাঈমুল হক বলেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বেশ কয়েকদিন ধরে ক্যাম্পে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছিল। সমাবেশ চলাকালে যাতে কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়, সেজন্য এপিবিএন পুলিশ সতর্ক অবস্থানে ছিল। কোনোরকম অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়া সমাবেশ শেষ হয়েছে। এর আগে ২০১৯ সালের ২৫শে আগস্ট উখিয়ায় রোহিঙ্গা শিবিরে প্রথমবারের মতো বড় সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছিল। সেই আয়োজনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন মাস্টার মুহিববুল্লাহ।

  • শেয়ার করুন