২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, বৃহস্পতিবার,দুপুর ২:১২

ক্ষতিকর রাসায়নিক দিয়ে পাকানো হচ্ছে আনারস

প্রকাশিত: আগস্ট ১৪, ২০২২

  • শেয়ার করুন

 

ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলায় ৩ ইউনিয়নের আবাদ করা আনারস পাকাতে ব্যবহার করা হচ্ছে রাসায়নিক উপাদান। অবাক করার ব্যাপার হচ্ছে, বর্তমানে আনারস পাকানো ও রং করার জন্য দেদারসে ব্যবহৃত হচ্ছে ক্ষতিকর বিষাক্ত রাসায়নিক ইথোপেন, রাইফেন। রাসায়নিক উপাদান ব্যবহারের ৪ থেকে ৫ দিনের মধ্যেই চাষিরা আনারস বাজারজাত করতে পারছেন। অথচ এ রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহারের ফলে কিডনির রোগ, ক্যান্সার, লিভারের মারাত্মক ক্ষতিসহ বিভিন্ন মরণব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

ঈদের পর হঠাৎ করেই আনারসের বাজার চাঙ্গা হয়ে যাওয়ায় আনারস ক্ষেত থেকে অপরিপক্ক আনারস উত্তোলন পূর্ব তড়িৎ পাকানোর জন্য দেহের ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান ইথোফান, রাইফেন, প্রকাশ্যে আনারসের গাঁয়ে স্প্রে করা হচ্ছে। ফুলবাড়ীয়া উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর ফুলবাড়ীয়ায় প্রায় ১১শ ২৬ হেক্টর জমিতে আনারসের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

স্থানীয় আনারস চাষিরা জানান, ১৮ মাস পর আনারস গাছে ফল হয়। কিন্তু তারা ১৮ মাসে আগাম ফল পাওয়ার আশায় তাদের ক্ষেতে আনারসের বড় চারা রোপণ করেন। আনারসের চারা সুস্থ ও সবল করার জন্য ফল আসার ২/৩ মাস আগে থেকেই অ্যাসিটিক অ্যাসিড ই-গোল্ড (পিজিআর) ব্যবহার করা হয়। ফুলবাড়ীয়া উপজেলার নাওগাঁও ইউনিয়নের সন্তোষপুর ও রাঙ্গামাটিয়া এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, আনারস চাষিরা ফল পাকানো ও রং করার জন্য তাদের ক্ষেতে স্প্রে মেশিনের মাধ্যমে ব্যাপকভাবে রাইফেন দিচ্ছেন।

সন্তোষপুর এলাকার আনারস চাষি ইউনুছ আলী জানান, রাইফেন, পটাশ সার ও লবণ মিশিয়ে স্প্রে না করলে ফল দেরিতে পাকে। আর ফলের রং না এলে ভালো দামও পাওয়া যায় না।

উপজেলার নাওগাঁ ইউনিয়নের সন্তোষপুর সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, আনারসের চাহিদা ঈদের পর বেড়ে যাওয়ায় আনারস ক্ষেতে রাসায়নিক উপাদান স্প্রে করা হচ্ছে। ৪/৫দিন পরেই আনারসগুলো পেঁকে যাবে।
আনারসে প্রকাশ্যে রাসায়নিক উপাদান স্প্রে করার বিষয়ে আজ পর্যন্ত কোন আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় প্রয়োগকারীরা এখন প্রকাশ্যে ব্যবহার শুরু করে দিয়েছে বলে জানান এলাকাবাসী। এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা: হারুন আল মাকসুদ জানান, রাসায়নিক উপাদান দিয়ে পাকানো আনারস খেয়ে কিডনির রোগ, ক্যান্সার, লিভারের মারাত্মক ক্ষতিসহ বিভিন্ন মরণব্যাধিতে আক্রান্ত হতে পারে।
উপজেলা কৃষি অফিসার জেসমিন নাহার জানান, আমি গুগলে সার্চ করে দেখেছি, আনারসের গায়ে যে রাসায়নিক উপাদান বা হরমোন ব্যবহার হচ্ছে তা আসলে ক্ষতিকারক নয়। আমি আমার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানিয়েছি।

  • শেয়ার করুন