৩০শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার,দুপুর ২:৫১

শিরোনাম
আগামী ইউপি নির্বাচনে মহারাজপুরে চেয়ারম্যান পদে আলোচনার শীর্ষে শরিফুল আলম কয়রায় পাথরখালী আগারঘেরী খালের পুনঃখনন শুরু কৃষকের মুখে হাসি  কয়রায় উন্নয়ন করতে হলে বিএনপির প্রার্থীকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করতে হবে- শফিকুল আলম মনা  কয়রায় বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে জেলা বিএনপির আহবায়কের জনসংযোগ কয়রায় সাংবাদিকদের সাথে নবাগত অফিসার ইনচার্জ জাহিদুল ইসলামের মতবিনিময় কয়রায় বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় দােয়া ও মিলাদ মাহফিল কয়রায় বিএনপি’র সন্ত্রাস বিরোধী বিক্ষোভ মিছিল সুন্দরবনের সম্পদ রক্ষায় সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে – বাসস চেয়ারম্যান কয়রায় পানি সংকট নিরসনে অ্যাডভোকেসি সভা

ইউনিয়ন ব্যাংকের ভোল্টের ১৯ কোটি টাকা উধাও

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২১

  • শেয়ার করুন

 

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ বেসরকারি খাতের ইসলামী শরিয়াহ ভিত্তিতে পরিচালিত ইউনিয়ন ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় সংলগ্ন গুলশান শাখার ভল্ট থেকে ১৯ কোটি টাকা উধাও হয়েছে। গত সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শক দল এমন তথ্য উদ্ঘাটন করে। এখন ব্যাংকটির সব শাখার ভল্ট পরিদর্শন করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। অনিয়মের তথ্য উদ্ঘাটনের পরও শাখার কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি। গুলশান থানায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ ঘটনায় কোনো অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।

জানা গেছে, গত সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং পরিদর্শন বিভাগ-৭-এর এক যুগ্ম পরিচালকের নেতৃত্বে একটি দল ইউনিয়ন ব্যাংকের গুলশান শাখা পরিদর্শনে যায়। সকাল ১০টার আগেই তারা শাখায় গিয়ে উপস্থিত হন। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী শুরুতেই তারা ভল্ট পরিদর্শন করেন। কাগজে-কলমে শাখার ভল্টে ৩১ কোটি টাকা দেখানো হলেও পরিদর্শক দল সেখানে ১২ কোটি টাকা পায়। তাৎক্ষণিকভাবে এর কোনো জবাব দিতে পারেননি শাখার কর্মকর্তারা। এরপর বিষয়টি ধামাচাপা দিতে নানা তৎপরতা শুরু করে শাখা কর্তৃপক্ষ। শাখা ব্যবস্থাপকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে ঘটনা ধামাচাপা দিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। একপর্যায়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি পক্ষও এ ঘটনায় কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ার পক্ষে অবস্থান নেয়। তবে শেষ পর্যন্ত ব্যাংকটির ব্যাখ্যা তলবের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সংশ্নিষ্টরা জানান, প্রতিদিন লেনদেনের শেষ ও শুরুতে ভল্টের হিসাব মিলিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব শাখা ব্যবস্থাপক, সেকেন্ড অফিসার এবং ক্যাশ ইনচার্জের। ভল্টে টাকার হিসাবে কোনো গরমিল হলে তা মিলিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব এসব কর্মকর্তার। অনেক সময় হিসাবের ভুলে সামান্য টাকার গরমিল হতে পারে। তবে বিপুল অঙ্কের টাকার গরমিল হলে তা ফৌজদারি অপরাধ। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে পুলিশে সোপর্দ করতে হবে। তবে এ ঘটনায় থানায় কোনো সাধারণ ডায়েরিও করেনি ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে থানায় কোনো অভিযোগ দেওয়া হয়নি। উল্টো গত মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত পুরো বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার তৎপরতা চলে। এ ছাড়া পরিদর্শনে গিয়ে যারা এই তথ্য উদ্ঘাটন করেছেন, তাদের চাপে রাখা হয়। সাধারণভাবে কোনো শাখার পরিদর্শনে গিয়ে ভল্টে এ রকম গরমিল পাওয়া যায় না।
এ বিষয়ে বক্তব্যের জন্য মঙ্গলবার থেকে গতকাল বুধবার পর্যন্ত ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবিএম মোকাম্মেল হক চৌধুরীকে বারবার টেলিফোন ও এসএমএস করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। মঙ্গলবার ব্যাংকটির উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) হাসান ইকবালকে ফোন করলে তিনি বলেন, এ ধরনের কোনো ঘটনা তিনি শোনেননি। ব্যাংকটির আরেক ডিএমডি মো. নজরুল ইসলাম বলেন, এ রকম ঘটনা এই প্রতিবেদকের কাছে তিনি প্রথম শুনলেন।
ইউনিয়ন ব্যাংকের গুলশান শাখার অপারেশন ম্যানেজার সাইফুল আজম মাহমুদ বলেন, ‘ব্যাংকিং বিধিবিধানের বাইরে কিছু করার সুযোগ তাদের নেই। শাখায় এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। কেউ ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করছে।’
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম গতকাল বলেন, ইউনিয়ন ব্যাংকের গুলশান শাখার ভল্ট পরিদর্শনে গিয়ে টাকার গরমিল পাওয়া গেছে বলে তিনি শুনেছেন। এখন তাদের ব্যাখ্যা তলব করা হবে। যুক্তিসংগত ব্যাখ্যা না পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • শেয়ার করুন